Md. Raihan Siddiquee - The Achievers' Blueprint
"আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে রৌপ্য পদক অর্জনের পেছনের গল্প"

Bangladesh IMO Team
ঐতিহাসিক মাইলফলক: ৬৭তম আইএমও ২০২৬
চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ৬৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (IMO) ২০২৬-এ আমাদের কৃতি শিক্ষার্থী Md. Raihan Siddiquee একটি মর্যাদাপূর্ণ সিলভার মেডেল (Silver Medal) অর্জন করেছেন। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার সানশাইন কোস্টে ৬৬তম আইএমও-তে অনারবল মেনশন অর্জনের পর এবার তিনি সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। এ বছর বাংলাদেশের ৬ সদস্যের পুরো দলই পদক অর্জন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে—যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বিশ্বজয়ের গল্প ও অলিম্পিয়াড জার্নি
CCPAC প্রতিনিধির সাথে মোহাম্মদ রায়হান সিদ্দিকীর কথোপকথন
আসসালামু আলাইকুম রায়হান! CCPAC এর পক্ষ থেকে আপনাকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। ৬৭তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (IMO) বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরে আপনি দেশের জন্য যে মর্যাদাপূর্ণ সিলভার মেডেল অর্জন করেছেন, তা আমাদের পুরো জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় গৌরব। কেমন কাটছে আপনার বর্তমান দিনগুলো? সেই সাথে শুরুতেই যদি একটু জানতে চাই, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ কি দেখার সুযোগ হয়েছিল?
ওয়ালাইকুমুস সালাম! অনেক ধন্যবাদ আপনাদের এই সুন্দর অভিনন্দন ও ভালোবাসার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছে। তবে ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে যদি বলেন, না আসলে আইএমও শেষ করে বাংলাদেশে ফেরার তাড়া ছিল তো, তাই সরাসরি খেলাটা দেখা হয় নাই। তবে স্পেন 🔥! খেলাটি নিয়ে রোমাঞ্চের কমতি ছিল না।
বাহ, দারুণ! তো রায়হান, এই যে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, এর পেছনের পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নিয়মগুলো কেমন ছিল, আমাদের পাঠকদের জন্য যদি একটু বিস্তারিত বলতেন?
বিডিএমও থেকে আইএমও পর্যন্ত পৌঁছানোর দীর্ঘ যাত্রাটি মূলত বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ধাপে বিভক্ত। প্রথমে অনলাইন বাছাই পর্ব থেকে সারা দেশ থেকে প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ শিক্ষার্থী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। এরপর অনলাইন বাছাই পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রিজিওনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। রিজিওনাল রাউন্ডে বিজয়ী ১,০০০ থেকে ১,২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঢাকায় জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি এই মোট ৪টি ক্যাটাগরি থাকে। জাতীয় পর্বের পর ক্যাটাগরি ভিত্তিক সেরা ৮০ জন (সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি থেকে ৪০ থেকে ৪৫ জন) শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঢাকায় লালমাটিয়ায় ১০ থেকে ১২ দিনের একটি আবাসিক ন্যাশনাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় এবং ক্যাম্পের শেষে ২ দিনে ৪ থেকে ৫টি কঠোর পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরিশেষে ক্যাম্পের সেরা ১৫ থেকে ২০ জন তুখোড় প্রতিযোগীকে নিয়ে একেবারে আইএমও ফরম্যাটে (সাড়ে ৪ ঘণ্টার মোট ৬টি পরীক্ষা, প্রতিটিতে ৩টি করে প্রবলেম) টিএসটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখান থেকে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত সেরা ৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চূড়ান্ত বাংলাদেশ আইএমও টিম গঠিত হয়।
আর আইএমও হলো মূলত ১০ দিনের একটি আন্তর্জাতিক মহা-আয়োজন। প্রথম দিন হয় জমকালো ওপেনিং সেরেমনি, যেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরে। এরপর টানা দুই দিন ৪.5 ঘণ্টা করে পরীক্ষা হয় (প্রতিদিন ৩টি করে মোট ৬টি প্রবলেম)। প্রবলেম ১ ও ৪ তুলনামূলক সহজ, ২ ও ৫ মাঝারি কঠিন এবং প্রবলেম ৩ ও ৬ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে কঠিন সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। খাতা মূল্যায়নের পর মেডেল কাট-অফ (Gold, Silver, Bronze) নির্ধারণ করা হয়। এমনকি যেকোনো একটি প্রবলেমে পূর্ণ নম্বর (৭/৭) অর্জন করতে পারলেও Honorable Mention পাওয়ার সুযোগ থাকে।

Md. Raihan Siddiquee

Md. Raihan Siddiquee
প্রতিটি সাফল্যের পেছনেই একটি দীর্ঘ সংগ্রাম থাকে। আপনার এই অলিম্পিয়াড যাত্রার শুরুটা কেমন ছিল? প্রথমদিকে কি আপনি সরাসরি সাফল্য পেয়েছিলেন, নাকি পথচলাটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল?
আমার শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। আমি প্রথমবার বিডিএমওতে অংশ নিয়েছিলাম ২০২১ সালে, সেবার রিজিওনাল রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েই বাদ পড়তে হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে ক্লাস ৮ থেকে ৯-এ ওঠার সময় রিজিওনাল পার করলেও জাতীয় পর্বে টিকতে পারিনি। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু হয় ২০২৩ সালে, নবম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে 'নান্দনিক সমাধান' পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ক্যাম্পে ডাক পাই।
ন্যাশনাল ক্যাম্পে পা রাখার পর আপনার গণিতের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন টপিকের ঘাটতিগুলো কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ন্যাশনাল ক্যাম্পে যাওয়ার পরেই মূলত উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম যে আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় গণিতে আমি কতটা পিছিয়ে আছি। সেখানে দেশের প্রথিতযশা অভিজ্ঞ মেন্টর ও সাবেক আইএমও প্রতিযোগীদের দেখে ভীষণ অনুপ্রাণিত হই। বিশেষ করে, নাহিয়ান ভাই আমাকে প্রচুর মানসম্মত রিসোর্স দিয়ে অকুণ্ঠ সাহায্য করেছিলেন এবং গণিতকে সম্পূর্ণ নতুন একটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে ও ভাবতে শিখিয়েছিলেন। শুরুতে আমার কেবল জ্যামিতিতে কিছুটা ভালো স্কিল ছিল, কিন্তু নাম্বার থিওরি, কম্বিনেটরিক্স ও অ্যালজেব্রা তুলনামূলক বেশ দুর্বল ছিল। যার ফলে ২০২৩ সালের টিএসটি-তে আমি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারিনি। পরবর্তীতে আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, জাতীয় টিমে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হলে গণিতের প্রতিটি টপিকেই একটি নির্দিষ্ট মিনিমাম মার্কস ব্যারিয়ার পার করার মতো দক্ষতা অর্জন করা অপরিহার্য।
ইন্টারমিডিয়েটে ওঠার পর তো একাডেমিক পড়াশোনা ও অলিম্পিয়াডের তীব্র প্রস্তুতি একত্রে সামলানো বেশ দুরূহ ব্যাপার। সেসময় আপনার পরিবার ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছিলেন?
ঠিকই বলেছেন, ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে ওঠার পর একাডেমিক পড়ার চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। আমার পরিবারের সবাই আমার এই পড়াশোনা ও অলিম্পিয়াড একসাথে চালিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিশেষ করে আব্বুর সাথে আমার এ নিয়ে অনেক দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছিল। একপর্যায়ে আমি তাকে প্রবল আত্মবিশ্বাসের সাথে বুঝিয়েছিলাম যে, পরবর্তী বছর আমি অলিম্পিয়াডে অত্যন্ত ভালো ফলাফল করব। পরম সৌഭാഗ্যের বিষয় হলো, আমার আব্বু, আমার পুরো পরিবার এবং আমাদের চট্টগ্রাম কলেজের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ মোজাহেদ স্যারসহ পুরো কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। সবার সেই অমূল্য বিশ্বাস ও সমর্থnoneের মর্যাদাই আমি কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছি।
২০২৫ সালে তো আপনি হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে champion of the champions অর্জন করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল?
২০২৫ সালে হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য চ্যাম্পিয়নস (Champion of the Champions) হওয়া আমাকে আরও কনফিডেন্ট করে আর আমার বিশ্বাসকে আরও মজবুত করে যা পরবর্তীতে টিএসটি তে ভালো ফলাফল করতে সাহায্য করে। সেবার প্রথমবারের মতো টিমে জায়গা করে নিই। কিন্তু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে বেশ কিছু ছোটখাটো ভুলত্রুটি করে ফেলেছিলাম। ফলস্বরূপ, ৪২ নম্বরের মধ্যে ১৩ নম্বর পেয়ে সেবার কেবল Honorable Mention নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল।
প্রথম আইএমও থেকে ফিরে আসার পর আমার মানসিক অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল, তীব্র এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে। নিজের অবহেলা ও ভুলগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করত যে আমি চাইলেই আরও অনেক ভালো করতে পারতাম। সেই আত্মোপলব্ধি থেকেই মনের মধ্যে জেদ চেপে বসল, আগের সব ভুল শুধরে আমাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসতে হবে।
সেই জেদ থেকেই তো আপনি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে এসে এইচএসসি পরীক্ষা না দিয়ে সরাসরি 'ইয়ার ড্রপ' (Year Drop) নেওয়ার মতো অত্যন্ত সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই পেছনের গল্পটি কেমন ছিল?
নিজেকে সঠিকভাবে পুনরায় প্রমাণ করার তীব্র তাগিদ থেকেই আমাকে জীবনের অন্যতম কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছিল, ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে এসে এইচএসসি পরীক্ষা এক বছর পিছিয়ে দেওয়া বা ইয়ার ড্রপ দেওয়া। আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতায় এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন, তা আপনারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। পরিবারে এ নিয়ে প্রচুর আলাপ-আলোচনা ও দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার আব্বু ও আমার পরিবার আমার এই অলিম্পিয়াড প্রেমের পাশে পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা আমার ওপর অন্ধের মতো বিশ্বাস রেখেছিলেন বলেই আমি আমার জীবনের সর্বস্ব দিয়ে শেষ চেষ্টাটুকু করার সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলাম।
অবশেষে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবারের সাংহাই আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের আসরে আপনার এই মহাসাফল্য! সাংহাইয়ের সার্বিক অভিজ্ঞতা এবং দেশের জন্য ঐতিহাসিক সিলভার মেডেল অর্জনের সেই জাদুকরী মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল?
এবারের সাংহাই আইএমও-এর সার্বিক আয়োজন, তাক লাগানো ব্যবস্থাপনা, সুস্বাদু খাবারদাবার, চমৎকার দলগত গাইড এবং সাংহাই ডিসনিল্যান্ড, মিউজিয়াম ও গার্ডেনসহ বিভিন্ন এক্সকারশন আমাদের জন্য সম্পূর্ণ এক রূপকথার মতো অভিজ্ঞতা ছিল। আমাদের দলনেতা মাহবুবুল আলম মজুমদার স্যার এবং উপদলনেতা অপূর্ব কুমার ভাইয়ের নিখুঁত ও অভিভাবকসুলভ দিকনির্দেশনা আমাদের পুরো দলের পথচলাকে অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গত বছরের ভুলগুলো থেকে পুরোপুরি শিক্ষা নিয়ে এবার ঠিক সঠিক সময়ে আমি নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে পেরেছি এবং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সিলভার মেডেল অর্জন করতে পেরেছি। এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা ও গৌরবের মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দেশের যে ধারাবাহিকতা বা কনসিস্টেন্সি একসময় করোনা মহামারীর কারণে কিছুটা থমকে গিয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের হাত ধরে সেই সুদিন ও ধারাবাহিকতা এখন আবার ফিরে আসছে।
আপনার এই দীর্ঘ ও অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রার শেষ পর্যায়ে এসে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থান এবং নতুন ও নবীন অলিম্পিয়াডিয়ানদের উদ্দেশ্যে আপনার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ বা গাইডলাইন কী থাকবে?
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে আমাদের ধারাবাহিকতায় কিছুটা ছেদ পড়েছিল। তা না হলে হয়তো আরও আগেই বাংলাদেশ আরও বেশি পদক অর্জন করতে পারত। তবে আশার বিষয় হলো, আমাদের সেই কনসিস্টেন্সি এখন ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। নতুনদের উদ্দেশ্যে আমার আন্তরিক পরামর্শ থাকবে, কখনোই শর্টকাট বা তাড়াহুড়ো না করে গণিতের বেসিক কনসেপ্টগুলো একদম ক্রিস্টাল ক্লিয়ার করার চেষ্টা করো। শুধু নিজের পছন্দের একটা নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে পড়ে থাকলে কখনোই প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না; জ্যামিতি, নাম্বার থিওরি, কম্বিনেটরিক্স এবং অ্যালজেব্রা, প্রতিটি টপিককেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। নিয়মিত সমস্যা সমাধান এবং বিগত বছরের প্রশ্নগুলো নিয়ে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, রিজিওনাল রাউন্ড বা প্রাথমিক কোনো ধাপে ব্যর্থ হয়ে বাদ পড়ে গেলে কখনো মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে না; নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাও, সাফল্য একদিন আসবেই।
শেষ করার আগে চট্টগ্রাম নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ বরাবরই একটু বেশি সংবেদনশীল, অনুরাগী ও প্রাণোচ্ছ্বল। আমার পরিবার, আমার কলেজ এবং আমার প্রতিটি বন্ধুবান্ধবের এই নিঃশর্ত সমর্থন, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের কারণেই আজ আমি এই বিশ্বজয় করতে পেরেছি। তাদের এই অবদান ছাড়া আমার এই অর্জন কখনোই সম্ভব হতো না। সকলের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা! আর চট্টগ্রাম কলেজ ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব (CCPAC) যেভাবে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে এবং এমন সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে রায়হান, আপনার এই মূল্যবান সময় ও অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার উত্তরোত্তর সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি!
আপনাদেরকেও অসংখ্য ধন্যবাদ এমন চমৎকার একটি আয়োজন করার জন্য এবং আমার এই গল্পটি সবার সাথে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য!
